হোলির পিকনিকের ধারাবাহিকতা আমরা।

অ্যাসোসিয়েসনের নতুন প্রজন্মের সদস্যদের কথা মাথায় রেখে  হোলির পিকনিকের গোড়ার দিকের কথা লেখার কথা মনে হলো। 

১৯৯০ সালের হোলির দিন আমাদের বাড়িতে কজন  এসেছিলেন আবির দিয়ে দোলের শুভেচ্ছা জানাতে । সবাই এতো রং মাখা ছিলেন,তাই নাম গুলো এখন আর মনে আসছে না।তখন হোলির জমায়েত হতোনা । তাদের অনুরোধে আমরাও স্কুটার নিয়ে এর বাড়ি তার বাড়ি বেড়িয়ে ছিলাম রং খেলতে । দীপঙ্করদা মনি বৌদির মণিনগরের বাড়ি যাবার কথা মনে আছে । আবুদার বেরহামপুরার বাড়িতে গিয়ে প্রচুর রং খেলা হয়েছিল । সেদিন আমরা সবাই হৈ চৈ আনন্দ অনেক করেছিলাম । এরপরে ঠিক হয় সবাই একসাথে একজোট হয়ে দোলের দিন রং খেলা হবে । সাথে খাওয়া দাওয়ার ব্যাবস্থা রাখা হবে ।  এর  আগে শুনেছি হোলির দিন রং খেলার পর সিনিয়র দাদা বৌদিদের বাড়িতে  অনেকে একজোট হয়ে একসাথে গান বাজনা ,খাওয়া দাওয়া আনন্দ হতো । হোলির পিকনিক ঠিক কোন সালে শুরু হয়েছিলো ,ঠিক মনে নেই।তবে ৯৩ সালে কাঙ্কারিয়ার পিকনিক হাউসে  মার্চ্চের এক সন্ধেবেলা জমায়েত ছিল।লটারিতে পাওয়া ঢাকা দেওয়া বড় ষ্টিলের বাটিটা এখনো ব্যাবহার করি।  তবে সেটা হোলির সন্ধে কিনা এখন আর সঠিক ভাবে মনে করত পারছি না । তখন পিকনিক থাকলে এর তার সাথে দেখা হলে জেনে নিতাম কে বা কারা যাচ্ছে বা যেতে পারে । তখনো কিনা ইমেল এতো ব্যাপক ভাবে আত্মপ্রকাশ করেনি । মুঠো ফোন তো ছিলনা ল্যান্ডলাইন সবার ছিলনা । তখনো কিন্তু আমরা হৈ হৈ করে পিকনিক যেতাম । ৯৬,৯৭,৯৮ কাঙ্কারিয়ার পিকনিক হাউসের হোলির পিকনিকের কথা সবার হয়তো মনে আছে । তখন ছেলেরাই নিজেরাই সবাই মিলেমিশে রান্না করতেন । বেশ একটা বন ভোজনের আমেজ পাওয়া যেতো । হোলির আগের দিন সবজি পাতি বাজার করে আমাদের বাড়িতে দুতিন বার রাখা হয়েছে । প্রবাদ প্রতিম মহম্মদের কাছ থেকে মাংস (মাটন)আনা হতো । কমল বাগচীদা রান্না বান্নার ব্যাপারে অগ্রনী ভূমিকা নিতেন । একবার গিয়ে দেখি বাগচীদা রান্না করছেন । তিন চার জন মিলে ভালো করে মাটন ধুচ্ছেন । কেউ বা বাড়ি গিয়ে মিস্কারে মাংসের মশলা বেটে আনছে । কেউ মাংসের আলু কেটে চলেছে।  এই ভাবে বেশ একটা হৈ হৈ কান্ড হতো । তখন রান্নার জন্য আশেপাশে বাড়ি থেকে সিলিন্ডার নিয়ে যাওয়া হতো । আমাদের ছেলেমেয়েরা রং খেলার জন্য বাড়ি থেকে বালতি পিচকারি নিয়ে যেত । কি আনন্দ করতো ওরা,দেখেও মন ভরে যেতো ।

এবারে আসি মেনুতে । ব্রেকফাষ্টে মুড়ি চানাচুর । দুপুরে খিচুড়ি,মাটন /চিকেন, চাটনি নিরামিষের ব্যাবস্থা অবশ্যই থাকত । খোকরার মাড্রাসী মন্দিরে কাছাকাছি একটা দোকানের অমৃতি ছাড়া পিকনিকে কথা ভাবা যেতো না । এখনো সেই অমৃতির প্রতি আমাদের ভালোবাসা অক্ষুণ্ণ আছে । যাকে  ওয়াজেদ আলী বলেছেনসেই ট্রাডিশন সমানে চলেছে । তখন বরাবর  পিকনিক হাউসে  হোলির জমায়েত হতো । ২০০১ সালে আমেদাবাদে প্রচন্ড ভূমিকম্প হয়ে গেছে । স্কুল কলেজ সব বন্দ আমরা একটা আতঙ্কের মাঝে বাস করতাম তখন । একে অপরকে দেখলে বেশ একটা সাহস পাাচ্ছি । ।সেবারে  সবার মনের জোর বাড়ানোর জন্য হোলির দিন পিকনিক হাউসে একটা জমায়েত রাখা হয়েছিলো । কোনো রং খেলা হয়নি । খুব সাধারন মেনু রাখা হয়েছিলো । সেদিন আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেকটা মানসিক শান্তি পেয়েছিলো। ২০০২ সালে আমেদাবাদের অশান্ত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে হোলির জমায়েত হতে পারেনি । ২০০৭ সালে প্রস্তাবিত কালীবাড়ীর জমিতে আমাদের হোলির জমায়েত হয়েছিলো । আমরা হৈ হৈ করে গিয়ে আনন্দ করেছিলাম। কয়েক বছর আগে নানা রকম অসুখের প্রকোপ বেড়ে যাওয়াতে প্রশাসনের বাধা নিষেধে একবার হোলির জমায়েত হতে পারেনি । পরবত্তী সময়ে বিভিন্ন জায়গা তে হোলির পিকনিক হয়েছে। বোপালের এক মালটিপ্লেক্সে ইদানীংকালে দুবছর হোলির পিকনিক হয়েছে । তবে ২০১৮ অর্জ্জুন ফার্মের হোলির মত এত আনন্দ অনেকদিন হয়নি। একবার কাঙ্কারিয়ার হোলিতে শান্তনু ভট্টাচার্য্য গান গেয়েছিলেন । হোলির দুদিন আগে অ্যাসোসিয়েসনের ফাংসানে গান গাইতে কলকাতা থেকে এসেছিলেন।

একটা কথা না বলে শেষ করতে পারছিনা । হোলির পিকনিকে গিয়ে আমরা প্রচুর আনন্দ করেছি । পিকনিক শেষ হয়ে যাবার পর সেই ভালো লাগার রেশটা রয়ে যেতো। এই সব টুকরো টুকরো ভালো লাগা নিয়ে আমারা আমেদাবাদে ভালো ছিলাম,ভালো আছি, ভালো থাকবো।